ই-কমার্স বনাম ঝুঁকিঃ-

সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন আমার এই লেখাটি পড়বার জন্য। অনেক আগেই বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার গোড়া পত্তন হলেও বিকশিত হয়েছে মূলতঃ e-Commerce Association of Bangladesh (e-CAB) এর যাত্রা শুরুর পর থেকে। ই-ক্যাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শ্রদ্ধেয় রাজিব আহম্মেদ ভাই তার ব্লগে অনেক পোস্ট দিয়েছেন উদ্যোক্তা তৈরি করবার জন্য। তাঁর অনুপ্রেরনাতে অনেকে এ ব্যবসাতে এগিয়ে এসেছেনও। অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং অনেকে হয়তোবা সঠিক গতিতে এগোতে পারেননি, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছেন।
মানুষ চেষ্টা করলে অনেক কিছু করতে পারে এটি যেমন সত্য তেমনই সে চেষ্টার জন্য আবশ্যকীয় মুলধনও একটা বড় প্রশ্ন? অনেকে তার অভিভাবকের কাছ থেকে একটা নির্দিষ্ট অংকের অর্থ নিয়ে হয়তোবা ই-কমার্স সেক্টরের উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করেছেন, কেউ তার জমানো অর্থ নিয়ে চেষ্টা করছেন, কেউবা পার্টনারের সহায়তায় এই সেক্টরে নামছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ই-কমার্স কোন নির্ধারিত অংকের টাকার ব্যবসা নয়। এখানে অনেক বিনিয়োগের পরেও যে কেউ সাকসেস হতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।
ই-কমার্স ব্যবসায় কেমন পুঁজি লাগতে পারে?
এই প্রশ্নটি অনেকেই করে বসেন। আমি টাকার অংকে কোন উত্তর দিতে পারবনা। কেননা উদ্যোক্তার নির্ধারিত কোন জায়গা আছে বলে আমি মনে করিনা। তবে যে এলাকাতে অফিস করছেন সে এলাকার উপর এই অংক নির্ভর করবে।
১। অফিস ভাড়া মান্থলি? (অস্থায়ী সম্পদ)।
২। প্রয়োজনীয় কম্পিউটার (অস্থায়ী সম্পদ)।
৩। লোকবল ওয়েব ডেভেলপার সহ কমপক্ষে ৪ জন। তাদের বেতন (স্থায়ী বিনিয়োগ)
৪। ম্যানেজমেন্ট করবার জন্য যদি লোক প্রয়োজন না হয় বা নিজেই সামাল দেন তো অন্য কথা।
৫। প্রচারের জন্য ব্যানার পোস্টার লগো স্টিকার বাবদ খরচ (অস্থায়ী সম্পদ)।
৬। পেজ প্রোমোটের জন্য নিয়মিত ডলার (কত করবেন নিজের উপর নির্ভর করবে) কন্টিনিউয়াস বিনিয়োগ।
৭। যদি অন্যান্য বিজ্ঞাপন দেবার প্রয়োজন মনে করেন তো তার জন্য নিয়মিত বরাদ্দ ।
উপরের বিষয় গুলোকে আপনার খরচের উপর হিসাব করলে পেয়ে যাবেন আপনার মান্থলি কত খরচ হবে ই-কমার্স ব্যবসার উদ্যোক্তা হতে গেলে। আমার হিসাবে কেউ ঢাকা শহরে অফিস নিলে তার মান্থলি খরচ দাঁড়াবে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এভাবে মাসের পর মাস বিনিয়োগ করে যেতে হবে তবে কত রির্টান পাওয়া যাবে তার কোন নিশ্চয়তা আছে বলে মনে হয় না।
এবার আসি পার্টনার প্রসংগে। আপনি হয়তোবা ই-কমার্স সম্পর্কে কিছু ধারনা নিয়ে নিয়েছেন। বিনিয়োগের জন্য পার্টনার খুজছেন, আপনার ধারনা তার সাথে শেয়ার করলেন এবং বললেন এত টাকা বিনিয়োগ করলে রিটার্ন পাওয়া যাবে। হতোবা রাজিও হলো ব্যবসা স্টার্ট করলেন, আপনার পার্টনার আপনার দেয়া সময় পরে আপনার কাছ থেকে রির্টান আশা করবে। কিন্তু রির্টান তো সহজ নয়, আপনি যতটা মাথা খাটাচ্ছেন আপনার পার্টনার মাথা খাটানোর প্রয়োজনই হয়তোবা মনে করবে না সে টাকা দিয়েছে আপনার কাছ থেকে টাকা রিটার্ন নেবে ভুলেও এধরনের পার্টনারের সাথে ই-কমার্স ব্যবসায় জড়াবেন না। কারনে একে আপনার বিনিয়োগ হয়ে গেছে আর কিছুটা বিনিয়োগ করলে হয়তোবা আপনার রিটার্ন শুরু হবে মনে করছেন এমত সময় আপনার পার্টনার আপনাকে তার টাকা রির্টান দেবার চাপ প্রয়োগ করবে সুতরাং ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না। একা থাকলে লছই কি আর লাভই কি কাউকে বলার নাই। আপনার ঝুঁকি আপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এখন পর্যন্ত যতটুকু বিনিয়োগ করেছি তা নিজের তাই হয়তোবা ভালো আছি মনে করছি, তবে পার্টনার থাকলে কোনভাবেই ভাল থাকতে পারতামনা। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো লিখলাম, কেননা আমি নিজে ছোট পরিসরে একজন উদ্যোক্তা হবার চেষ্ট করেছি মাত্র। উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারিনাই। সফলতা সেতো স্বপ্ন!!!
যাহোক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সেক্টরে উদ্যোক্তা তৈরি হওয়াও আবশ্যক। তবে তাদের প্রাথমিক এই ধরনাটি কাজে দেবে বলে আমি মনে করি। প্রত্যেক উদ্যোক্তাই তার নিজস্বতা নিয়ে নিজের একটা ধরনা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহন করে। তাদের উদ্যোগে বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টর উত্তোরোত্তর উন্নয়ন সাধন হবে এই প্রত্যাশায়।
প্রশান্ত কুমার মন্ডল
সি ই ও